Header Ads

Header ADS

Cloud Load Balancer

 Load Balancer

-----------------------------------
ধরেন, আপনি একটা হাটে (মাঠে বসা বাজার) বড় একটা খাবারের দোকান চালান, যেখানে অনেক মানুষ খেতে আসে। এখন দুপুরবেলা (Peak Time), সবাই একসাথে খাবারের অর্ডার দেয়। আপনি যদি একা এক হাতে সবার অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে হট্টগোল লেগে যাবে, অনেকেই না খেয়ে চলে যাবে, কেউ অর্ডার দিয়েও খাবার পাবে না।
তাই আপনি বুদ্ধি করে আপনার দোকানে কয়েকজন সহকারী রেখে দিলেন — কেউ ভাত দিবে, কেউ তরকারি, কেউ পানি। এবার আপনি মূল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে লোকজনদের আলাদা আলাদা লাইনে পাঠিয়ে দেন — যেন সবাই একে একে আলাদা সহকারীদের কাছ থেকে খাবার পায়। কেউ বেশী ব্যস্ত, তার জন্য বড় সহকারী বসানো, কেউ কম — তার জন্য ছোট সহকারী।
এভাবেই প্রতিদিন দুপুরে অগোছালো ভিড়ের বদলে, সবকিছু গুছিয়ে চলে যায় — কেউ না খেয়ে ফিরে যায় না।
এই ব্যবস্থাটিই হচ্ছে একদম সহজ ভাষায় Load Balancer-এর কাজ।
## Load Balancer কী?
Load Balancer একটি প্রযুক্তি যেটা একাধিক সার্ভার বা সার্ভিসের মাঝে কাজ ভাগ করে দেয় — যেন সব সার্ভারে সমান কাজ যায়, কেউ অতিরিক্ত চাপ না পায়, এবং সেবা (সাইট/অ্যাপ) দ্রুত এবং নিরবিচারে চলতে থাকে।
-> Load Balancer এর কিছু মূল ব্যবহারঃ
1. ট্রাফিক ভাগ করা (Traffic Distribution)
কেন দরকার: অনেক রিকোয়েস্ট একসাথে আসলে Load Balancer সেগুলোকে বিভিন্ন সার্ভারে ভাগ করে দেয়।
উদাহরণ: যেমন, ৩০% রিকোয়েস্ট দিলেন সার্ভার A-তে, ৪০% গেল B-তে, আর বাকি ৩০% গেল C-তে — যার যতটা শক্তি, তার উপর তত চাপ।
2. উচ্চ প্রাপ্যতা (High Availability)
কেন দরকার: যদি কোনো সার্ভার নষ্ট হয়, তাহলে যেন অটোমেটিক অন্য ভালো সার্ভারে ট্রাফিক পাঠানো যায়।
উদাহরণ: সার্ভার A যদি হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেয়, তাহলে Load Balancer বুঝে ফেলে আর ওদিকে রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে B এবং C তে পাঠায়।
3. SSL টার্মিনেশন (SSL Termination)
কেন দরকার: ডাটা নিরাপদ রাখতে অনেক সময় HTTPS ব্যবহার হয়, যা ডিক্রিপ্ট করতে সময় লাগে। Load Balancer এই কষ্টের কাজটা নিজের কাছে রাখে।
উদাহরণ: যেন সব সার্ভারকে বারবার এনক্রিপশন/ডিক্রিপশন করতে না হয়, Load Balancer এই কাজটা আগেই করে ফেলে, ফলে সময় ও রিসোর্স বাঁচে।
4. স্টিকি সেশন বা সেশন ধরে রাখা (Session Persistence)
কেন দরকার: একবার কেউ যে সার্ভারে গেল, আবার যেন সে ওই সার্ভারেই যায়, তার আগের তথ্য যেন থাকে।
উদাহরণ: বব গেল সার্ভার A-তে, তার পরের বারও ববকে ওইখানে পাঠানো হলো, যেন তার আগের লগিন/কার্ট ডেটা মিলে যায়।
5. স্কেলেবিলিটি (Scalability)
কেন দরকার: কাজ বাড়লে নতুন সার্ভার যুক্ত করা সহজ হয়, এবং সিস্টেমে কোনো সমস্যা হয় না।
উদাহরণ: শুরুতে ১টা সার্ভার ছিল, এখন ২টা-৩টা হয়ে গেছে, Load Balancer বুঝে নিচ্ছে কার উপর কত চাপ দেয়া উচিত।
6. সার্ভার পর্যবেক্ষণ (Health Monitoring)
কেন দরকার: সব সার্ভার ঠিকঠাক চলছে কিনা সেটা দেখাশোনা করা।
উদাহরণ: ধরেন, C সার্ভার হঠাৎ কোনো সাড়া দিচ্ছে না। Load Balancer বুঝে যায়, আর ওই সার্ভারে কাউকে পাঠায় না, যতক্ষণ না সেটা ঠিক হয়।
-> কোথায় Load Balancer ব্যবহার হয়?
বড় বড় ওয়েবসাইট (যেখানে লাখ লাখ ইউজার আসছে)
ই-কমার্স সাইটে পেমেন্ট ও অর্ডার প্রসেসিং, মাইক্রোসার্ভিস ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, ক্লাউড-ভিত্তিক সিস্টেমে সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট
-> জনপ্রিয় Load Balancer টুল:
Nginx, AWS ELB (Elastic Load Balancer), HAProxy.Google Cloud Load Balancer, Azure Load Balance

No comments

Theme images by fpm. Powered by Blogger.